Wellcome to National Portal
মেনু নির্বাচন করুন
Main Comtent Skiped

এক নজরে

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড

পলাশ,নরসিংদী


 এক নজরে বিআরডিবি,পলাশ, নরসিংদী  


বিষয়ঃভিশন ও মিশন ।

         সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা সোনার বাংলার সার্বিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য পল্লীর উন্নয়নের ভূমিকাকে অস্বীকার করার অবকাশ নেই। কৃষি প্রধান দেশ হিসেবে ৭৫% মানুষের গ্রামে বসবাস। তাই তৃনমূল পর্যায়ে প্রান্তিক আশার আলো একমাতত্র পল্লী উন্নয়ন করে থাকে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পরই যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে খাদ্য-বস্ত্র বাসস্থান সংকট সহ পল্লী এলাকায় নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা থেকে উত্তরনের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় দ্বি স্তর বিশিষ্ট সমবায় আন্দোলন দেশ ব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। জাতির পিতার সোনার বাংলা গঠনের স্বপ্নই ছিল পল্রী উন্নয়নের মাধ্যমে  এদেশের মানুষের দুঃখ কষ্ট দুর করা। সমবায় আন্দোলন হবে সাধারন মানুষের যৌথ আন্দোলন। কৃষক,শ্রমিক মেহনতি জনতার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান।

পল্লী উন্নয়ন

পল্লী উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন শব্দ দুটি একে অপরের পরিপুরক। অর্থাৎ পল্লী প্রধান বাংলাদেশে পল্লী উন্নয়ন হলে দারিদ্র্য বিমোচন হবে আর দারিদ্র্য বিমোচন মানেই পল্লীর উন্নয়ন। বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে পল্লী উন্নয়নের যাত্রা শুরু হয় ভি-এইড (গ্রামীন কৃষি এবং শিল্প উন্নয়ন) কর্মসূচীর মাধ্যমে ১৯৫৩ সালে। গত শতাব্দির ষাটের দশকে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ ও ব্যবহার এবং সেচ ব্যাবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীন প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করনের লক্ষে কুমিল্লা মডেল উদ্ভাবিত হয়। কুমিল্লা মডেলের মূল উপাদানের মধ্যে দ্বি-স্তর বিশিষ্ট (গ্রামীন প্রতিষ্ঠান) অন্যতম।

বালাদেশের প্রেক্ষিতে পল্লী উন্নয়নের ধারনা

 কুমিল্লা পদ্ধতির দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সমবায় ব্যবস্থার মাধ্যমে পল্লী উন্নয়নের লক্ষে কুমিল্লা জেলার ”সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচী” প্রবর্তন করা হয়। উক্ত কর্মসূচী বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালে ১৯৭০-৭১ হতে ১৯৭৪-৭৫ মেয়াদে দেশে নির্বাচিত ২৩টি থানায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ”সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচী” বাস্তবায়িত হয়ে থাকে এবং এর একাধিক পর্যায়ে সফলতার পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশে ”সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচী” বাস্তবায়িত হয়।

        ষাটের দশকের শেষ ভাগে অধিক খাদ্য ফলাও আন্দোলন, আধুনিক কৃষি পদ্ধতির সম্প্রসারণ, উন্নত কৃষি ব্যবস্থাপনা ,সেচ সম্প্রসারণ প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনশক্তিকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে ডঃ আখতার হামিদ খাঁন কর্তৃক উদ্ভাবিত বিশ্বনন্দিত কুমিল্লা মডেলের  দ্বি-স্তর সমবায় ব্যবস্থা যা সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচী নামে জাতীয়ভাবে চালু করা হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নির্দেশে দুঃখি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে সরাদেশে আইআরডিপি কে সম্প্রসারিত করা হয়। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে এর কার্যক্রম ব্যাপক সফলতা অর্জন করে। আইআরডিপির সাফল্যকে আরও সুসংহত করার উদ্দেশ্যে ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) গঠিত হয়।

পল্লী উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে বিআরডিবির ভূমিকা

 বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) গ্রামীন জনগনের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান।  দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সরকারী এবং বিভিন্ন দাতাসংস্থার অর্থায়নে এ পর্যন্ত মোট ৭৩টি উন্নয়ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে এবং বর্তমানে ১৭টি সমাপ্ত প্রকল্প প্রশাসনিক মন্ত্রনালয়ের অনুমোদনক্রমে বিআরডিবির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলমান রয়েছে।পল্লী দরিদ্র্য জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়ননহ সামগ্রিক পল্লী উন্নয়নে বিআরডিবি তাৎপর্যপূর্ন ভ’মিকা পালন করে চলেছে যা অভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।বিআরডিবির সার্বিক কর্মকান্ডের ফলে জাতীয় পর্যায়ে জিডিপিতে বিআরডিবির  অবদানের  পরিমাণ হচ্ছে ১.৯৩% । জাতীর পিতার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সমবায়ের মাধ্যমে এদেশে অবহেলিত ,নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষের সার্বিক উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে বাংলাদেশে যতগুলো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছেন তার মাঝে একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পটি সবচেয়ে বেশি উল্লেখ যোগ্য। এই প্রকল্পটির সফলতার জন্য এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য বিআরডিবি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা  পালন করেছে।


 বিআরডিবির কার্যাবলী

   বর্তমানে সরকারী পর্যায়ে অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দারিদ্র্যমুক্ত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিআরডিবি বিভিন্নমূখী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তন্মধ্যে-

১। পল্লীতে বসবাসরত দরিদ্র্য জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক মানব অবকাঠামো  (সংগঠন) সৃষ্টি ;

২। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্ব নির্ভরতা অর্জনের জন্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় জমার মাধ্যমে নিজস্ব পুঁজি গঠনে সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করা;

৩। পল্লীর মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি , আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানে সমবায় সমিতি সমূহ/পল্লী উন্নয়ন দল সমূহকে উৎসাহিত করা ;

৪। প্রশিক্ষনের মাধ্যমে মানব সম্পদ উন্নয়ন,মহিলা উন্নয়ন,নারীর  ক্ষমতায়ন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন ,অংশীদারিত্ব মূলক পল্লী উন্নয়ন,কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও বহূমূখীকরন ;

৫। উৎপাদন বৃদ্ধি,কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পল্লী উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক সমবায় সমিতি/পল্লী উন্নয়ন দল ও ইউসিসিএ সমূহকে নিজস্ব ব্যবস্তাপনায় স্বশাসিত ও অর্থনৈতিক ভাবে টেকসই চালিকা শক্তিরুপে গড়ে উঠতে সহায়তা করা ;

৬। সমিতির সদস্য গনকে সহজ শর্তে কৃষি উপকরনের (সার,বীজ,কীটনাশক এবং সেচ যন্ত্র পাতি) জন্য ঋণ প্রদান করা ;

৭ । উপকার ভোগী সদস্যদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন যাবতীয় প্রকল্প কর্মসূচির বাস্তবায়ন

৮। অস্বচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পোষ্যদের আত্ম কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ঋণ প্রদান করা।

৯। গ্রামীন দরিদ্র মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতা প্রদান এবং গ্রামীন নেতৃত্বের বিকাশ ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা।

এ ছাড়াও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি, হাঁস-মুরগী পালন,গাভী পালন,গরু মোটা তাজা করন,ছাগল পালন,মৎস্য চাষ,স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা তৈরি,গবাধি পশু ও হাঁস-মুরগীর টিকাদান ও পরিচর্যা কর্মসূচি বিআরডিবির কর্মকান্ডভুক্ত।


    স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশকে সোনারবাংলা রুপে প্রতিষ্ঠার জন্য জাতির পিতা  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যে কয়টি প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দিয়ে গড়ে তুলেছেন  বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) তাদের অন্যতম। দ্বি-স্তর সমবায় আন্দোলনের মাধ্যমে এদেশে পল্লী উন্নয়নের ভিত্তি নির্মানে বিআরডিবি অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার রুপকল্প ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের কৌশল বাস্তবায়নে বিআরডিবি আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে।বর্তমানে সরকারের ২০৪১ উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রনীত করার লক্ষ্যে বিআরডিবি  নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।  জননেত্রী শেখ হাসিনা মনে করেন পল্লীর মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হলে শিক্ষার হার বাড়বে বাংলাদেশ উন্নত হবে।আমরা ভিক্ষার জাতি না হয়ে একটি স্বনির্ভর জাতি হিসেবে বিশ্বের কাছে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে পারবো। তাই  বিআরডিবির শ্লোগান হলো গ্রাম উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল ,ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে  আরও বেগবান  করতে বিআরডিবি বদ্ধপরিকর ।